Posts

Showing posts from April, 2022

গল্প : পাখির ভাষা

        পাখির ভাষা    ||    জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় পাখির ভাষা শেখার ভূত মাথায় চাপলে হরিদাদু ছাড়া গতি নেই।তিনি চব্বিশটা বই ঘেঁটে অনেক শেখালেন।তারপর রাত্রে পক্ষীবিশারদ সালিম আলিকে প্ল্যানচেটে ডাকলেন।যেটুকু বাকি ছিলো জেনে নিয়ে আলি সাহেবকে আমরা স্যালুট দিলুম।তবে দুজনেই আমাকে খুব সাবধানে পাখিভাষা প্রয়োগ করতে বললেন কেন কে জানে!  তেষট্টি দিন ভোকাল ট্রেনিংয়ের পর আমার হেঁড়ে গলা থেকে প্রায় পাখির ডাকের মতো কোনো একটা আওয়াজ বের হলো আর আমগাছ থেকে একটা শালিক এসে আদুরে গলায় কুরুলে উঠলো।   ঠাকুরমার ঝুলির হীরামন পাখি ভবিষ্যৎ বলে দিত শুনেছি কিন্তু শালিকটিও সেই ক্ষমতার অধিকারী, জানা ছিলো না।   আমার আওয়াজ শুনে ও মুখভঙ্গি দেখে বিনি ঠাকুমা বাঁকা চোখে তাকালো,বুঝলুম,বিপদ আসছে। বিনি ঠাকুমা ভীষণ মুখরা আর লাগিয়ে-ভাঙিয়ে আগুন জ্বালাতে তার জুড়ি নেই।পাড়ার ছেলেদের সে চক্ষুশূল কারণ, যতবার তারা মার খায় তার বেশিটাই ওই ঠাকুমার কারসাজি। আশঙ্কা সত্য,শোনা গেল,ছোটোবৌ,তোর ছেলেটাকে পাগলের ডাক্তার দেখা।কীসব পাগলের মতো আওয়াজ আর অঙ্গভঙ্গি করছে,মাথ...

কবতা : গ্রামনাম সিরিজ

  গ্রামনাম সিরিজ   ||  জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ১. মধুনাম  ||   জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় নামফলকে মধুতটী দেখে সেখানে একটি নদীর প্রত্যাশা অমূলক নয়। মধুর প্রকারভেদের কথা আপনার মনে পড়াও সম্ভব। হয়তো সেখানে অভাবগুলো মধুতে ঢাকা আর তার বুড়োবটের অজস্র ডালে বুনো মৌচাক সাজানো মধুর ভাণ্ডার। সাবধান বাণীটি ভোলা যাবে না, বুনো মৌমাছির হুল ও তার বিষ মারাত্মক। তবু জানি শীধুটানে ঘোর মাদকতা। ২. বাউল    ||   জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় নদিয়াপুর লেখা দেখে আমার মনে পড়ে নদিয়ার মাটি আমাকে ক্রমাগত টানে, সে টান অবশ্যই চৈতন্যপ্রণোদিত মানবিক ও পারিবেশিক। জন্মভূমির মতো দরাজ আবেগের বন্যাজল অবিরল ধেয়ে আসে। সেই কবোষ্ণকোণ,তিক্তাঙ্গন বা নির্বাসনে যত সুখ তার জন্য বাউল হতে পারি। কপালে ধুলোতিলক আবেগবিহ্বল গৌরানন্দ সুখে ভেসে যাবো স্বার্থবোধ ভুলে...... ৩. নদীর মা   ||  জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ভৈরবপুরের বাঁকে অবিরাম ডাকে যে শান্ত জলাধার সে এক নদীর গর্ভধারিণী দিঘলবুকের টানে মা গাংদোয়া কন্যা শালী বা শালিনীকে পুষ্ট করে চলেছে কত যুগ..... বড়ো নিরিবি...

কবিতা : গুচ্ছাণু

     গুচ্ছাণু    ||   জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ১.বালিশের পাশে হৃদপিণ্ড রেখে রূপকথার দেশে যায় হিসেবি মানুষ অবিশ্বাস আমাকে লিখো না। ২.শিল্প ও শিল্পীর রসায়ন সমান্তর ফুল ও পরাগ .......অনিন্দ্য উপবন। ৩. ফুলের কাছে হৃদয় বন্ধক রেখে আগুন জ্বালাই প্রেম আর বাগানে ফোটে না। ৪. বাঘের মড়ির মতো অতি যত্নে গর্তে রাখি তুলি চেটে নিয়ে আবার রাখি বাধা বড়ো মায়া। ৫. ফণার উপর নাচের মুদ্রা রেখে গ্যাছো বেজি নয় ইঁদুর হয়েছি। ৬. রাতের ফুলের কাছে ঘুম জমা রাখি অনিদ্রা আমার শুশ্রূষা।